মানুষের রক্ত ও বুকের দুধে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির তথ্য আগেই পাওয়া গেছে। এবার বৃষ্টির পানিতেও ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার সন্ধান পেয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন এজেন্সির (BRIN) গবেষকেরা।
গবেষকেরা জাকার্তার বৃষ্টির পানি পরীক্ষা করে এতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন। উপকূলীয় এলাকা থেকে সংগ্রহ করা বৃষ্টির পানিতে প্রতি বর্গমিটারে প্রায় ১৫টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃষ্টির ফোঁটায় মাটিতে নামছে প্লাস্টিক
গবেষকদের মতে, বাতাসে ভেসে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক বৃষ্টির ফোঁটার সঙ্গে মাটিতে নেমে আসে। ফলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ যত বাড়ে, বাতাস থেকে তত বেশি প্লাস্টিক কণা ভূমিতে পৌঁছাতে পারে।
BRIN-এর গবেষক মোহাম্মদ রেজা কর্ডোভা জানিয়েছেন, ১০০ বর্গমিটার আয়তনের একটি বাড়ির ছাদে বৃষ্টির সময় প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পড়তে পারে।
কোথা থেকে আসছে এসব কণা?
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টির পানিতে পাওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিকের মধ্যে কাপড়ের সিনথেটিক ফাইবার ও গাড়ির টায়ারে ব্যবহৃত পলিমারের কণা রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্লাস্টিকজাত বস্তু পোড়ানো বা পচনের মাধ্যমেও ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা তৈরি হয়ে বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ইন্দোনেশিয়ায় নিয়মিত আবর্জনা পোড়ানোর কারণে বায়ুতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ বাড়ছে বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে। দেশটির একটি বড় ভাগাড়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা আগুনের পর ধোঁয়া ও প্লাস্টিকের কণা আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
মানুষের শরীর ও পরিবেশে উদ্বেগ
ইন্দোনেশিয়ার বাতাস ও মানুষের শরীরেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে মানুষের মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের মাত্রা বিশ্বে সর্বোচ্চ পর্যায়ের। সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর শরীরেও এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।
প্লাস্টিক দূষণ এখন বৈশ্বিক পরিবেশগত উদ্বেগের বিষয়। বৃষ্টির পানির মাধ্যমেও এসব কণা ছড়িয়ে পড়ার তথ্য পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।
৩৭৭ ধারা কার্যকরের দাবি ৬০০ আলেমের
৭ ঘন্টা আগে