যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ৪ বছরের বেশি থাকার নীতি স্থগিত
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ চার বছর অবস্থানের সীমা নির্ধারণ করে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত নতুন ভিসা নীতি কার্যকর হওয়ার আগেই স্থগিত করেছেন একটি ফেডারেল আদালত। একই সঙ্গে বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসায় অবস্থানের সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাবও আপাতত কার্যকর হচ্ছে না।
মঙ্গলবার থেকে নীতিটি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও তার এক দিন আগে সোমবার বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালত তা স্থগিত করেন।
শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের জন্য প্রস্তাবিত নিয়ম
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত নীতিতে এফ ভিসাধারী বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময় সর্বোচ্চ চার বছর নির্ধারণের কথা বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভিসায় সর্বোচ্চ ২৪০ দিন থাকার সুযোগ রাখার প্রস্তাব ছিল। বিশেষ পরিস্থিতিতে আরও ২৪০ দিন অবস্থানের অনুমতির জন্য আবেদন করার সুযোগও রাখা হয়েছিল।
প্রস্তাবিত নিয়মটি ২০২৫ সালের আগস্টে সামনে আনা হয়। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা প্রায় ১৬ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী এবং প্রায় ৫ লাখ এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসাধারী পড়তেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
মার্কিন শ্রমিক ইউনিয়ন ও উচ্চশিক্ষাবিষয়ক কয়েকটি সংগঠনের জোট আদালতে আবেদন করার পর মামলাটি শুনানিতে আসে। বোস্টনের ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক এফ ডেনিস সেলর চতুর্থ নীতিটি কার্যকর হওয়ার আগেই স্থগিতের আদেশ দেন।
বিচারকের মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ব্যবস্থার আওতায় বিদেশি শিক্ষাবিদেরা গবেষণা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। প্রস্তাবিত নতুন নীতির কারণে উচ্চশিক্ষা ও মার্কিন অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা এবং ভিসা কর্মসূচিতে জালিয়াতি প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে ট্রাম্প প্রশাসন যে যুক্তি দিয়েছে, সেটিও আদালতের কাছে যথেষ্ট শক্তিশালী মনে হয়নি।
‘পাবলিক চার্জ’ নীতি নিয়েও মামলা
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আরেকটি অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধেও আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও ইলিনয়সহ ২২টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসি মামলা করেছে। ছয়টি শহর ও কাউন্টিও পৃথকভাবে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো গ্রিন কার্ড আবেদনকারীকে যদি ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে তাঁর স্থায়ী বসবাসের আবেদন প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ পেতে পারে মার্কিন প্রশাসন।
স্বাস্থ্য ও খাদ্য সহায়তা নিয়েও উদ্বেগ
নতুন প্রস্তাবে সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনার ক্ষেত্রে অভিবাসন কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। ফলে মেডিকেডের মতো স্বাস্থ্যসেবা বা খাদ্য সহায়তার মতো সুবিধা নেওয়া অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের আবেদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মামলাকারীদের অভিযোগ, কংগ্রেসের আইন প্রণয়নের ক্ষমতাকে পাশ কাটিয়ে প্রশাসন এ ধরনের পরিবর্তন আনতে চাইছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব নীতির পক্ষে জাতীয় নিরাপত্তা ও অভিবাসন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ জোরদারের যুক্তি দেওয়া হয়েছে।
অনুরূপ সংবাদ
৩৭৭ ধারা কার্যকরের দাবি ৬০০ আলেমের
৬ ঘন্টা আগে