পরীক্ষায় অসদুপায়: ঢাবি ও অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ৬৪ শিক্ষার্থী শাস্তি পেলেন
একাডেমিক পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন ও অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও এর অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ৬৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী এক থেকে তিনটি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ৭ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরিত আদেশে বিষয়টি জানানো হয়।
আদেশ অনুযায়ী, ৬৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০ জনকে ‘পরীক্ষা +১’, ৩১ জনকে ‘পরীক্ষা +২’ এবং ১৩ জনকে ‘পরীক্ষা +৩’ মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
‘পরীক্ষা +১’ বলতে যে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ উঠেছে সেটি বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী একটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের নিষেধাজ্ঞা বোঝানো হয়েছে। একইভাবে ‘পরীক্ষা +২’ ও ‘পরীক্ষা +৩’-এর ক্ষেত্রে পরবর্তী দুই ও তিনটি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যাবে না।
শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন। আরবি বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ সাতজন শিক্ষার্থী শাস্তির আওতায় এসেছেন। পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং, এমবিবিএস, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিভাগ থেকে পাঁচজন করে এবং উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ ও হেলথ টেকনোলজি (ল্যাবরেটরি) থেকে চারজন করে শিক্ষার্থী রয়েছেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউট থেকে একাধিক শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তালিকায় ছাত্রদলের হল শাখার একজন সদস্য এবং হল সংসদের একজন নির্বাচিত সদস্যও রয়েছেন।
শাস্তি কমানোর সুযোগ
অভিযোগের জন্য অনুতপ্ত হয়ে প্রক্টর অফিসের মাধ্যমে উপাচার্যের কাছে ক্ষমা চেয়ে শাস্তি কমানোর আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৮৯ সালের সিন্ডিকেটের দেওয়া ক্ষমতাবলে উপাচার্য সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত শাস্তি কমাতে পারেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া আবেদনের ভিত্তিতে ১৪ শিক্ষার্থীর এক বছরের শাস্তি মওকুফ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের নাম, বিভাগ এবং শাস্তির মেয়াদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।