এক বছরের কাজের হিসাব দিলেন ডাকসু নেতারা, প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এক বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় নিজেদের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জনের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন ছাত্রসংসদের নেতারা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও নির্ধারিত বাজেট না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম এসব অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গত এক বছরে ৪১টি খাতে হাজারের বেশি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আবাসন থেকে গবেষণা—বিভিন্ন উদ্যোগের দাবি
সাদিক কায়েম বলেন, হলগুলোর আবাসনসংকট মোকাবিলা, রিডিং রুম আধুনিকায়ন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের পরিবহন সমস্যা সমাধান এবং স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, যৌন হয়রানি ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধে সেল, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতা এবং বহিরাগত নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ডাকসুর ইতিহাসে এবার প্রায় তিন ডজন বা ৩৬টি প্রকাশনা বের করা হয়েছে বলেও দাবি করেন ডাকসু ভিপি।
‘বাজেট দেওয়া হয়নি’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাদিক কায়েম বলেন, দায়িত্ব পালনের পুরো সময়ে তাঁরা প্রশাসনের কাছ থেকে ‘বিমাতাসুলভ’ আচরণের মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ডাকসুর জন্য নির্ধারিত বাজেট দেওয়া হয়নি এবং ব্যয়ের সঠিক হিসাবও তাঁদের সরবরাহ করা হয়নি।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ডাকসু নেতারা প্রশাসনের কাছে এলে তাঁদের কাজে সহযোগিতা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ও বিধি মেনে কাজ করার জন্য তাঁদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সহ-উপাচার্যের ভাষ্য, প্রশাসনের নিয়মের কারণে কিছু কাজ তাৎক্ষণিকভাবে করা সম্ভব না হওয়ায় ডাকসু নেতারা বিষয়টিকে অসহযোগিতা হিসেবে দেখেছেন। তাঁর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে ডাকসুর কার্যক্রমে প্রশাসন সব সময় আন্তরিক ছিল।
দ্রুত ডাকসু নির্বাচনের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন সাদিক কায়েম। তিনি জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর বর্তমান কমিটির এক বছর পূর্ণ হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আহ্বান জানানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর দাবি, উপাচার্য ও ডাকসু সভাপতির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সভায় নতুন নির্বাচনের রূপরেখা ও তফসিল ঘোষণার বিষয়টি প্রথম এজেন্ডা হিসেবে তোলা হলেও তা ঝুলে আছে।
অবিলম্বে পরবর্তী ডাকসু নির্বাচনের রূপরেখা ও তফসিল ঘোষণার দাবি জানান তিনি।
গত বছর নির্বাচনে জয়
২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে সাদিক কায়েম ১৪ হাজার ৪২ ভোট পেয়ে ভিপি নির্বাচিত হন। এস এম ফরহাদ ১০ হাজার ৭৯৪ ভোট পেয়ে জিএস এবং মহিউদ্দীন খান ১১ হাজার ৭৭২ ভোট পেয়ে এজিএস নির্বাচিত হন।
গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন।
ডাকসু থেকে কোনো টাকা নেননি ভিপি-জিএস-এজিএস
৪ ঘন্টা আগে
জবি বাসে সিট দখল, র্যাগিং ও ধূমপান নিষিদ্ধ
৪ ঘন্টা আগে
৩৭৭ ধারা কার্যকরের দাবি ৬০০ আলেমের
২ দিন আগে