কিছু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর
কিছু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, তৎকালীন সরকারের সময় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগে কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
‘সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কিছু সাংবাদিক তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেছেন—এমন অভিযোগ তাঁদের কাছে রয়েছে। বর্তমানে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
তিনি আরও বলেন, গুম-খুনের ঘটনায় করা একটি মামলায় সাক্ষী মেজর (অব.) মো. সাব্বির রহমান ওসমানীর দেওয়া জবানবন্দি চলমান তদন্তে সহায়ক হতে পারে।
র্যাবের অভিযানে সাংবাদিকদের উপস্থিতির অভিযোগ
মেজর (অব.) সাব্বির রহমান ওসমানী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে র্যাবের কয়েকটি অভিযানে সাংবাদিকদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মোহাম্মদ সোহায়েলের আমন্ত্রণে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা অভিযানস্থলে যেতেন। তাঁদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম দিয়ে অভিযানের ঘটনাস্থল দেখানো হতো।
সাক্ষী তাঁর জবানবন্দিতে কয়েকটি অভিযানকে ‘সাজানো’ বলে সন্দেহ করার কারণও তুলে ধরেছেন। তবে এসব বক্তব্য বর্তমানে আদালতে দেওয়া সাক্ষ্য এবং এর সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
‘সহায়তা করলে তাঁরাও অপরাধী’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যম যদি মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করে থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের আওতায় তাঁদের দায় নির্ধারণের বিষয়টি তদন্তে আসতে পারে।
তাঁর দাবি, অভিযানের ঘটনাগুলো যেভাবে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করা হতো, কিছু গণমাধ্যম বা সাংবাদিক তা সেভাবেই প্রচার করতেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে কেউ সহযোগিতা করে থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করেন, সাক্ষী তাঁর জবানবন্দিতে কোনো নির্দিষ্ট সাংবাদিক বা গণমাধ্যমের নাম উল্লেখ করেননি।
তিন সাংবাদিক এরই মধ্যে গ্রেপ্তার
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগের একটি মামলায় তিন সাংবাদিক বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁরা হলেন—জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ও উপস্থাপক ফারজানা রুপা।
এ ছাড়া ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরের হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে আসামি করা হয়েছে।
অনুরূপ সংবাদ
মাকসুদ কামাল-জাফর ইকবালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ
মিরাজ শেখের গুমের অভিযোগ সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত চলছে: আইনমন্ত্রী
কাদেরসহ ৭ নেতার মৃত্যুদণ্ডের প্রতিবাদে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের নীরব অবস্থান
হাদি হত্যা মামলার আসামির জামিন আবেদন খারিজ, তথ্য গোপনের অভিযোগ
ডাকসু থেকে কোনো টাকা নেননি ভিপি-জিএস-এজিএস
৪ ঘন্টা আগে
জবি বাসে সিট দখল, র্যাগিং ও ধূমপান নিষিদ্ধ
৪ ঘন্টা আগে
৩৭৭ ধারা কার্যকরের দাবি ৬০০ আলেমের
২ দিন আগে