কুষ্টিয়ায় কৃষক দলের কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ, পরে যুবলীগ নেতার বাড়িতে আগুন
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন কৃষক দলের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পরে একই এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর এবং একটি পাটের গুদামে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত আটটার দিকে উপজেলার নলকোলা গ্রামের মোড়ে এসব ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে।
কৃষক দলের কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ
স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর কৃষক দলের কার্যালয়ে কয়েকজন নেতা-কর্মী দলীয় আলোচনা করছিলেন। এ সময় যুবলীগ নেতা রুহুল আমিনের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জন সেখানে গিয়ে হামলা চালান।
তাঁরা নেতা-কর্মীদের মারধর এবং কার্যালয়ের আসবাব ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে কৃষক দলের পাঁচ থেকে ছয়জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি আবদুর রহমান অভিযোগ করেন, রুহুল আমিনের নেতৃত্বে কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের পাশাপাশি নেতা-কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করার কথা জানান তিনি।
পরে যুবলীগ নেতার বাড়িতে হামলা ও আগুন
কৃষক দলের কার্যালয়ে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা যুবলীগ নেতা রুহুল আমিনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ ওঠে।
ওই বাড়ির পাশে থাকা একটি পাটের গুদামে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জামিন নিয়ে এলাকায় ফেরার পর হামলার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্র ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় রুহুল আমিনসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার তাঁরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় ফেরেন। এরপর রাতেই কৃষক দলের কার্যালয়ে হামলা হয়েছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রুহুল আমিনসহ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকায় পুলিশ মোতায়েন
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার ঘটনাটির জন্য হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ জানান, রাত থেকেই ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মামলা হলে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।