পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য পাঠ্যবইয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধকালীন তাঁর একটি ডায়েরির ছবিও পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি) নিবন্ধটি পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাঠ্যবইয়ে
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে নিবন্ধটি নতুন অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হবে।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিভিন্ন ব্যক্তির অবদান নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরার অংশ হিসেবেই নিবন্ধটি পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
কী থাকছে নিবন্ধে
নিবন্ধটিতে ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রামে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদের সংগঠিত করা এবং কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারের সময়কার বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা রয়েছে।
পাঠ্যবইয়ের প্রস্তাবিত অংশে জিয়াউর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধের একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর ভূমিকার প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা হবে। সেখানে চট্টগ্রামের প্রতিরোধযুদ্ধ ও কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের ঘটনাবলির বর্ণনাও থাকবে।
স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে যে ব্যাখ্যা থাকবে
এনসিটিবির কারিকুলাম সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধটির আগে একটি ব্যাখ্যামূলক অংশ রাখা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব নয়।
এই অংশে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী, শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান এবং তাজউদ্দীন আহমদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এনসিসিসির অনুমোদন
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, গত ২৪ আগস্ট সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এনসিসিসির সভায় নিবন্ধটি পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, এনসিসিসির সভায় নিবন্ধটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন পেয়েছে। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।
শিক্ষাবিদদের মত
শিক্ষাবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ মনে করেন, জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধটির ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে এবং এটি শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতার সংগ্রাম সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদও পাঠ্যবইয়ে নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্তকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস উপস্থাপনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন।