২ কেজি ১০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হলো ৭ হাজার ২০০ টাকায়
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলে মো. সোহরাব গাজীর জালে ধরা পড়েছে ২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় আকৃতির ইলিশ। বুধবার সকালে কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে প্রকাশ্য নিলামে মাছটি ৭ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
নিলামে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ওঠে ৩ হাজার ৬২৫ টাকা। কুয়াকাটা মা মনি ফিশের ম্যানেজার মো. মিজান মাছটি কিনে নেন। পরে এটি শরীয়তপুরের এক প্রবাসীর বাড়িতে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।
গভীর সমুদ্রে জালে ধরা পড়ে ইলিশটি
স্থানীয় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার পায়রা বন্দরসংলগ্ন পাইপ বয়ার গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান জেলে সোহরাব গাজী। জাল তোলার সময় অন্যান্য মাছের সঙ্গে বড় আকৃতির ইলিশটিও উঠে আসে।
পরে বুধবার সকালে মাছটি কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিয়ে আসা হলে প্রকাশ্য নিলামে তোলা হয়। সেখানে প্রতি মণ ইলিশের দাম ওঠে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। সেই হিসাবে ২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের মাছটির দাম দাঁড়ায় ৭ হাজার ২০০ টাকা।
প্রায় সাত বছর পর বড় ইলিশ পেলেন জেলে
জেলে সোহরাব গাজী জানান, প্রায় এক দশক ধরে তিনি বঙ্গোপসাগরের গভীরে মাছ ধরছেন। এত বড় ইলিশ সচরাচর জালে ধরা পড়ে না। তাঁর দাবি, প্রায় সাত বছর পর এবার আবারও বড় আকৃতির একটি ইলিশ পেয়েছেন।
মাছটির ক্রেতা মো. মিজান বলেন, বর্তমানে বাজারে এ আকারের ইলিশ তুলনামূলক কম পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণেই তিনি নিলামে মাছটি কিনেছেন।
বড় ইলিশের প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, বড় ইলিশ বাজারে এলেও এর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তাঁদের মতে, প্রতি কেজি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে ইলিশ কেনা নিম্নআয়ের মানুষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজিব সরকার বলেন, ছোট ইলিশ নির্বিচারে আহরণ, নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া, বাঁধ ও স্লুইসগেটের কারণে মাছের অভিবাসনে বাধা, অবৈধ ট্রলিং ও জালের ব্যবহার এবং ব্যবস্থাপনার ঘাটতি বড় ইলিশের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পানি দূষণ, প্ল্যাঙ্কটনের স্বল্পতা, জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার পরিবর্তনও ইলিশের প্রজনন ও খাদ্য সরবরাহে প্রভাব ফেলছে।
সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, গভীর সমুদ্রে এ ধরনের বড় ইলিশ ধরা পড়া ইতিবাচক। তাঁর মতে, ইলিশ সংরক্ষণে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সুফলের একটি দিক এটি হতে পারে।
স্থানীয় মৎস্যজীবীরা মনে করেন, বড় ইলিশের প্রাপ্যতা ধরে রাখতে ছোট ইলিশ সংরক্ষণ, অবৈধ জাল ও ট্রলিং বন্ধ এবং নদী ও সমুদ্রের পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।