ইউপি চেয়ারম্যান হলে গাঁজা-ইয়াবা ফ্রি দেওয়ার পোস্টার, যুবদল নেতার অস্বীকার
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নে ‘চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে গাঁজা-ইয়াবা ফ্রি দেওয়ার’ ঘোষণা সংবলিত পোস্টার সাঁটানোর অভিযোগ উঠেছে। এসব পোস্টারে ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. খোকনের নাম ও ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
সোমবার ও মঙ্গলবার রাতে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পোস্টারগুলো সাঁটানো হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে পোস্টারের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
পোস্টারে নানা ধরনের বক্তব্য
দেয়ালে সাঁটানো পোস্টারে মো. খোকনকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে নির্বাচিত হলে বিনা মূল্যে গাঁজা-ইয়াবা দেওয়ার পাশাপাশি বেকারদের জন্য ‘গাঁজা ভাতা’, মাদকসেবীদের জন্য বিশেষ কার্ড এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে মাদক সরবরাহের মতো বিভিন্ন বক্তব্য লেখা হয়েছে।
পোস্টারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়েও আপত্তিকর বক্তব্য এবং চাঁদাবাজির মাধ্যমে উন্নয়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পোস্টারের সঙ্গে সম্পৃক্ততা অস্বীকার খোকনের
তবে পোস্টারে নিজের নাম ও ছবি ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মো. খোকন। তাঁর দাবি, পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এসব পোস্টার লাগিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
খোকন জানান, কয়েক দিন আগে তাঁর ছেলে অনিকে স্থানীয় এক ব্যক্তির ছেলে মারধর করেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, পোস্টার সাঁটানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
‘পূর্বশত্রুতার কারণে হতে পারে’
সিরাজপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, পূর্বশত্রুতার কারণে এ ধরনের পোস্টার লাগানো হয়ে থাকতে পারে।
পুলিশের তদন্ত
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম বলেন, ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পোস্টারে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে মো. খোকনের সম্পৃক্ততা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।