‘বাহাত্তরের সংবিধান ডাস্টবিনে নিক্ষেপের কথা বলেছিলেন খালেদা জিয়া’
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি দাবি করেছেন, রাষ্ট্রকাঠামোর বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কার্যকরভাবে কোনো কাজ শুরু হয়নি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: সাম্প্রতিক ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তাজুল ইসলাম। পরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি গভর্নেন্সের আয়োজিত এক আলোচনা সভাতেও তিনি একই প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন।
সংস্কার পরিষদ গঠন না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন
তাজুল ইসলাম বলেন, জুলাই সনদে রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাঠামো পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে এবং প্রতিনিধিত্বশীল রাজনৈতিক দলগুলো এতে স্বাক্ষর করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংবিধানসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংস্কার শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।
তিনি সংসদের উচ্চকক্ষ বা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট ও পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
খালেদা জিয়ার বক্তব্য প্রসঙ্গ
বাহাত্তরের সংবিধান নিয়ে বিএনপির বর্তমান অবস্থানের প্রসঙ্গও তোলেন তাজুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অতীতে এই সংবিধানকে ‘ডাস্টবিনে নিক্ষেপ’ করার কথা বলেছিলেন।
তাজুল ইসলামের প্রশ্ন, অতীতে বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা বাহাত্তরের সংবিধান নিয়ে এমন বক্তব্য দেওয়ার পর বর্তমানে দলটি কীভাবে সংবিধানের বাইরে যাওয়াকে নিজেদের নীতিগত অবস্থানের বাইরে বলে উল্লেখ করছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সমালোচনা
তাজুল ইসলাম বলেন, সরকারপ্রধান ও বিরোধী দলের নেতারা জুলাই সনদের প্রতিটি বিষয় বাস্তবায়নের কথা বললেও বাস্তবে সংস্কার প্রক্রিয়া এগোয়নি বলে তিনি মনে করেন।
তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না হওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা জুলাই সনদে ছিল, তার বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।