আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন নিয়ে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপিকে ঘিরে অভিযোগ
আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন করা হচ্ছে—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকার আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা, ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করা এবং ভোটব্যাংক বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা-কর্মীদের যোগাযোগ বাড়ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র যাচাই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
গাড়ি ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক
প্রতিবেদনটিতে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর একটি গাড়ি ব্যবহারের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচিতে তিনি যে প্রাডো গাড়ি ব্যবহার করেন, সেটির মালিকানা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাড়িটির মালিক মাদারীপুর সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুল ইসলাম তুষার ভুঁইয়া। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যসহ বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন যাচাই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
আওয়ামী লীগ থেকে বিভিন্ন দলে যোগদানের আলোচনা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের নেতা ও ব্যবসায়ী মহলের একটি অংশ বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এর পেছনে রাজনৈতিক সুবিধা, সম্পদ রক্ষা এবং মামলা-মোকদ্দমা থেকে নিজেদের সুরক্ষার বিষয় কাজ করছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের যোগদানের কয়েকটি ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ১০২ জন নেতা-কর্মীর জামায়াতে যোগদানের একটি ঘটনাও সেখানে তুলে ধরা হয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের অভিযোগ নিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনিক বিভিন্ন পদে নিয়োগ এবং নমনীয় অবস্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ এবং আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অপরদিকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেছেন, জামায়াত ও এনসিপিও ভোটের রাজনীতির স্বার্থে পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পুনর্বাসনের সুযোগ করে দিচ্ছে।
স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে নতুন সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন দলের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সাবেক রাজনৈতিক নেতাদের যোগাযোগ নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে কারও রাজনৈতিক দলে যোগদান বা কোনো দলের সঙ্গে যোগাযোগের ঘটনাকে সরাসরি ‘পুনর্বাসন’ হিসেবে চিহ্নিত করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যোগদানের বিষয়টি আগামী স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
অনুরূপ সংবাদ
৩৭৭ ধারা কার্যকরের দাবি ৬০০ আলেমের
৮ ঘন্টা আগে