শিশুশিক্ষার্থী হত্যা: পাবনায় প্রধান আসামির বাড়িতে জনতার হামলা
পাবনা সদর উপজেলায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামির বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে স্থানীয় জনতা। শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ লোকজন ওই বাড়িতে হামলা চালিয়ে এর বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরের পর বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ওই বাড়ির সামনে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা বাড়ির দরজা-জানালা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করেন। বড় হাতুড়ি দিয়ে বাড়ির ছাদ ও দেয়ালের কিছু অংশও ভেঙে ফেলা হয়। পরে বাড়িটির অবকাঠামোর বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আগে থেকেই পুলিশ ছিল। তবে স্থানীয় লোকজনের সংখ্যা বেশি থাকায় শুরুতে ভাঙচুর ঠেকানো সম্ভব হয়নি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়। পরদিন পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর শিশুটির সন্ধানের দাবিতে স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয়রা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন।
পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি মোস্তফা প্রামাণিক (৫৫) এবং তাঁর বাড়ির ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে (২১) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে মামলায় ধর্ষণ ও হত্যার ধারা যুক্ত করা হয়।
পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে হত্যার পর ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন ও হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার দুজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
শিশুটির হত্যাকাণ্ডে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।