সুস্থ সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমেই অপসংস্কৃতির মোকাবিলা সম্ভব: শফিকুর রহমান
সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ ও চর্চার মাধ্যমেই সমাজ থেকে অপসংস্কৃতি দূর করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে ‘দেশীয় সংস্কৃতি সংসদ’ আয়োজিত নাত-এ-রাসুল ও কাওয়ালি সন্ধ্যায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘নিজস্ব সংস্কৃতি লালন করতে হবে’
শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিটি জাতির নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে। তবে নিজেদের সংস্কৃতিকে যথাযথভাবে লালন ও ধারণ না করার কারণে সমাজে অপসংস্কৃতির প্রভাব বেড়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তাঁর ভাষ্য, অপসংস্কৃতিকে শুধু বক্তব্য বা প্রতিবাদের মাধ্যমে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এর পরিবর্তে সুস্থ তামাদ্দুন ও সংস্কৃতিচর্চার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
তরুণদের মূল্যবোধ চর্চার আহ্বান
অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষক ও গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান জামায়াত আমির। তাঁর মতে, বর্তমান সমাজে পারস্পরিক মূল্যবোধের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা এবং সঠিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, কোনো রাষ্ট্রে রাজনৈতিক পরিবর্তন বা গণবিপ্লবের পর সেই পরিবর্তনের আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্রের কার্যক্রমে ধারণ ও চর্চা করা না হলে তা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, তাঁর দলের দৃষ্টিতে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্য অর্জনে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও পরিকল্পনাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক চর্চার কথা
‘দেশীয় সংস্কৃতি সংসদ’-এর উপদেষ্টা মতিউর রহমান আকন্দও অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের মধ্যে সাংস্কৃতিক চেতনা ও বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, তাঁদের সংগঠন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে সাংস্কৃতিক চেতনা তৈরিতে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে নাত-এ-রাসুল ও কাওয়ালি পরিবেশনের পাশাপাশি দেশের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
৩৭৭ ধারা কার্যকরের দাবি ৬০০ আলেমের
৭ ঘন্টা আগে