২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হলো। আল-কায়েদার পরিকল্পনায় চালানো ওই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, পেন্টাগন এবং পেনসিলভানিয়ার একটি স্থানে হামলা চালানো হয়।
ওই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বৈশ্বিকভাবে ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ জোরদার করে। আফগানিস্তান ও ইরাকে দীর্ঘ সামরিক অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার—সব মিলিয়ে বিশ্বব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসে।
আল-কায়েদা দুর্বল হলেও পুরোপুরি শেষ হয়নি
৯/১১-এর পর আল-কায়েদার নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এসেছে। ওসামা বিন লাদেন ২০১১ সালে নিহত হন এবং তাঁর উত্তরসূরি আয়মান আল-জাওয়াহিরিও ২০২২ সালে নিহত হন। এরপর সংগঠনটি আরও বিকেন্দ্রীভূত কাঠামোর দিকে যায় এবং বিভিন্ন দেশে সহযোগী সংগঠনের মাধ্যমে প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগের মতো একটি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অধীনে বড় হামলার বদলে বর্তমানে বিভিন্ন আঞ্চলিক গোষ্ঠী ও ছোট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সন্ত্রাসী তৎপরতা পরিচালিত হচ্ছে। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠনগুলোর উপস্থিতি এখনো রয়েছে।
‘লোন উলফ’ হামলার ঝুঁকি
৯/১১-এর পর সন্ত্রাসবাদের একটি বড় পরিবর্তন হলো একক ব্যক্তি বা ছোট গোষ্ঠীর মাধ্যমে হামলার প্রবণতা। এসব হামলাকারীর সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সরাসরি সাংগঠনিক যোগাযোগ না থাকলেও তারা অনলাইন প্রচারণা বা উগ্রবাদী মতাদর্শে প্রভাবিত হতে পারে।
ফলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য শুধু সংগঠন শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়; অনলাইন উগ্রবাদ, ব্যক্তিগত পর্যায়ে র্যাডিকালাইজেশন এবং ছোট নেটওয়ার্কের গতিবিধিও নজরদারির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
প্রযুক্তি বদলে দিয়েছে সন্ত্রাসের কৌশল
গত ২৫ বছরে প্রযুক্তির ব্যাপক অগ্রগতি সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রেও নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রচারণা ও উগ্রবাদী মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়া এখন আগের তুলনায় সহজ। একই সঙ্গে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং অন্যান্য সহজলভ্য প্রযুক্তি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের সন্ত্রাসী হুমকিতে ড্রোন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে প্রচলিত নিরাপত্তাব্যবস্থার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরোধব্যবস্থার প্রয়োজন বাড়ছে।
বদলেছে মানুষের নিরাপত্তা-ভাবনাও
৯/১১-এর পর বিমানবন্দর নিরাপত্তা, নজরদারি এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন-কানুনে বড় পরিবর্তন এসেছে। তবে এসব পদক্ষেপের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, নাগরিক অধিকার এবং অতিরিক্ত নজরদারি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক এক রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, ২৫ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের কাছে বিদেশি সন্ত্রাসবাদের তুলনায় অভ্যন্তরীণ উগ্রবাদকে বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখার প্রবণতা বেড়েছে।
২৫ বছর পরও শেষ হয়নি সন্ত্রাসের অধ্যায়
৯/১১-এর পর বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান আল-কায়েদাকে আগের অবস্থান থেকে অনেকটাই দুর্বল করেছে। তবে বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসী সংগঠনের উপস্থিতি, অনলাইন উগ্রবাদ, একক হামলাকারী এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার দেখাচ্ছে—হুমকির ধরন বদলেছে, কিন্তু তা পুরোপুরি শেষ হয়নি।
২৫ বছর পর ৯/১১ তাই শুধু একটি ভয়াবহ হামলার স্মৃতি নয়; এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা, রাজনীতি, প্রযুক্তি ও সন্ত্রাসবিরোধী নীতির দীর্ঘ পরিবর্তনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
৩৭৭ ধারা কার্যকরের দাবি ৬০০ আলেমের
৬ ঘন্টা আগে