লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন ফয়জুল করীমের, ‘এত তেল কেন পোড়ালাম’
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। তাঁর প্রশ্ন, সরকারবিরোধী কর্মসূচি হিসেবে লংমার্চ করা হলেও সংসদে আবার সরকারকে আন্তরিক বলা হলে এমন কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা কী ছিল।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনের বিষয় ছিল ‘হেবা আইনের বিতর্কিত সংশোধন প্রসঙ্গে শরিয়াহ্ ও আমাদের অবস্থান’।
লংমার্চের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন
ফয়জুল করীম বলেন, বিরোধী দলের কর্মসূচি ও বক্তব্যের মধ্যে সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একদিকে সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চ করা হয়েছে, অন্যদিকে সংসদে বলা হচ্ছে এটি সরকারের তৈরি কোনো সংকট নয় এবং সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি সরকারকে আন্তরিক মনে করা হয়, তাহলে লংমার্চের প্রয়োজন হলো কেন এবং এর কারণে মানুষের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের যৌক্তিকতাই বা কী।
সরকারকে সময় দিচ্ছে ইসলামী আন্দোলন
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এখনই সরকারকে চাপ দিতে বড় কোনো কর্মসূচি দেয়নি বলেও জানান ফয়জুল করীম। তাঁর দাবি, সরকারকে কিছুটা সময় দেওয়া হচ্ছে, যাতে চলমান সমস্যাগুলো সমাধানের সুযোগ পায়।
তিনি বলেন, সরকারকে বক্তব্যের মাধ্যমে চাপের মধ্যে রাখার পাশাপাশি সময় দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে সরকার সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে এবং তখন সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তেল-গ্যাস, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে সমালোচনা
সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই সরকারবিরোধী লংমার্চের প্রসঙ্গ তুলে ফয়জুল করীম বলেন, দেশে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ে সমস্যা রয়েছে। যানজট নিরসনেও সরকার প্রত্যাশিত সাফল্য দেখাতে পারেনি বলে তাঁর দাবি।
তাঁর অভিযোগ, এসব বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে সরকার শরিয়াহবিরোধী আইন করছে। মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত এলে মানুষ আবার রাজপথে নামবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
হেবা আইন বাতিলের দাবি
হেবা-সংক্রান্ত সংশোধিত আইনের সমালোচনা করে ফয়জুল করীম বলেন, আইনটির বিষয়ে দেশের আলেমরা আগেই আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, শরিয়াহ-সংক্রান্ত বিষয়ে খ্রিষ্টান পণ্ডিতদের রেফারেন্স ব্যবহার করে আইন প্রণয়ন করা দেশের আলেম সমাজ, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি অবজ্ঞা।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তাই তাঁর ভাষায়, সংশ্লিষ্ট আইনটি দ্রুত বাতিল করা উচিত।
শুক্রবার বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ
‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন-২০২৬’ আরও পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এ দাবিতে শুক্রবার দেশের সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন ফয়জুল করীম।
নারী সাংবাদিকদের পোশাক নিয়েও মন্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে একজন নারী সংবাদকর্মীকে সামনের সারি থেকে সরিয়ে পেছনে বসানোর অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফয়জুল করীম বলেন, ইসলামী আন্দোলনের অনুষ্ঠানে নারী সাংবাদিকদের পর্দা মেনে আসা উচিত।
নারীদের সাংবাদিকতা নিয়ে তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন নারীদের সাংবাদিকতা করতে বাধা দিচ্ছে না; তবে তাঁর মতে, তা শরিয়াহসম্মতভাবে করতে হবে।
৩৭৭ ধারা কার্যকরের দাবি ৬০০ আলেমের
৭ ঘন্টা আগে