সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো বা ‘নবম পে স্কেল’ আগামী নতুন অর্থবছরের বাজেটেই নিশ্চিতভাবে বাস্তবায়ন হবে বলে সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি বাংলা’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়।
আগামী জুলাই থেকেই শুরু হচ্ছে নতুন কাঠামো!
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে প্রশাসনের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, আগামী জুলাই মাস থেকেই এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে যাচ্ছে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ বলেন, “আগামী বাজেটেই নতুন বেতন কাঠামো নিশ্চিতভাবে বাস্তবায়ন হবে। তবে এটি ঠিক কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে বর্তমানে চূড়ান্ত কথাবার্তা ও পর্যালোচনা চলছে।”
কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এই পে স্কেল হুবহু বাস্তবায়ন করা হবে কি না এবং এবারের বাজেটেই এর শতভাগ সুবিধা দেওয়া হবে কি না—বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এই বিষয়গুলোর খুঁটিনাটি নিয়ে এখনো উচ্চপর্যায়ে আলোচনা ও সমন্বয় চলছে।
বেতন কমিশনের সুপারিশে যা ছিল
প্রসঙ্গত, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো তৈরির উদ্দেশ্যে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে ২৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল।
ওই কমিশন দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে চলতি বছরের গত ২১ জানুয়ারি (২০২৬) তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাঁদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশমালা জমা দেয়।
কমিশনের প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের জন্য পূর্বের ন্যায় ২০টি গ্রেড বা স্কেলেই বেতন পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করা হয়। যেখানে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনা করে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে এক লাফে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার জোর সুপারিশ করা হয়েছিল।
আগামী বাজেটে এই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণার খবরে দেশের প্রায় ১৫ লাখেরও বেশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাঝে দীর্ঘদিনের উন্মুখতার অবসান ঘটতে যাচ্ছে এবং আনন্দ ও স্বস্তির আবহাওয়া বিরাজ করছে।