দেশে চলমান হাম (মিজলস) পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কোনো গাফিলতি নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রশংসার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত কম সময়ে এত বড় জনগোষ্ঠীর জন্য এত বিপুল পরিমাণ টিকা বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশ সংগ্রহ করতে পারেনি।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শূন্য হাতে শুরু ও আইসিইউ বাড়ানোর ঘোষণা
বিগত সরকারের সমালোচনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের সরকার একটি ভেন্টিলেটরও রেখে যায়নি, এমনকি হাম প্রতিরোধের কোনো টিকাই মজুত ছিল না। বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ শূন্য হাত থেকে কাজ শুরু করেছে।”
চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়নের সুখবর দিয়ে তিনি জানান:
-
আগামী মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় দেশের আরও ১০টি জেলায় নতুন আইসিইউ (ICU) ইউনিট চালু করা হবে।
-
প্রতিটি জেলায় ১২টি করে ভেন্টিলেটর এবং ১২টি করে অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর দেওয়া হচ্ছে, যা গুরুতর শিশুদের চিকিৎসায় বড় ভূমিকা রাখবে।
-
আইসিডিডিআর,বি-র ডা. তাহমিদের উদ্ভাবিত শিশুদের শ্বাসকষ্ট দূর করার নতুন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিও বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
হাম ছড়ানোর মূল কারণ: ভিটামিন ‘এ’ ও পুষ্টির অভাব
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আক্রান্ত শিশুদের দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সর্বোচ্চ চিকিৎসাই দেওয়া হচ্ছে। তবে রোগটি এত বেশি ছড়িয়ে পড়ার পেছনে পুষ্টির অভাবকে দায়ী করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, “শিশুদের বছরে দুইবার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়ার কথা থাকলেও ২০২৪ সালে দেওয়া হয়েছে মাত্র একবার। আর ২০২৫ সালে কোনো ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনই হয়নি।”
তিনি আশ্বাস দেন যে, আগামী ১০ জুনের মধ্যে ইউনিসেফ (UNICEF) থেকে প্রচুর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেশে পৌঁছাবে এবং এরপরই দেশজুড়ে বড় পরিসরে ক্যাম্পেইন চালানো হবে।
মায়েদের প্রতি পরামর্শ
মায়েদের পুষ্টিহীনতা এবং শিশুদের বুকের দুধ কম খাওানোকে হামের অন্যতম ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে সিজারিয়ান অপারেশনের পর মায়েরা যেন দ্রুত নবজাতককে বুকের দুধ খাওয়ান, সেই বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ এবং নতুন আইসিইউ চালুর সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে হামের প্রকোপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।