মির্জা ফখরুলকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও: রাজশাহীতে কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আব্দুল কাদের ওরফে সজীব (৩১) নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে মুচলেকা নিয়ে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয় পুলিশ।
বুধবার (১৩ মে) রাতে রাজশাহীর বাগমারা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সজীব’ নামে পরিচিত এই যুবকের বাবার নাম কামরুল ইসলাম।
ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পতিসরে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নওগাঁ জেলা প্রশাসন ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রবীন্দ্র মেলার ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বুধবার সকালে ‘ডিয়া ব্লগ’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মির্জা ফখরুলকে ব্যঙ্গ করে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, শিমুল নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে কয়েকজন টিকটকার ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে পতিসরে যাওয়ার পথে গাড়ি থামিয়ে বিএনপি মহাসচিবকে নিয়ে ট্রল ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ক্ষোভ এবং ক্ষমা প্রার্থনা
ভিডিওটি নজরে আসার পর স্থানীয় যুবদল, ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং জড়িতদের ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম দেন। তোপের মুখে ভিডিওটি ফেসবুক থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও ততক্ষণে অনেকেই এটি ডাউনলোড করে বিভিন্ন গ্রুপে ছড়িয়ে দেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সজীব আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করে নিজের কান ধরে ভুল স্বীকার ও ক্ষমা চান। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, তিনি মূলত সাধারণ ‘ফানি ভিডিও’ বা মজার কনটেন্ট তৈরি করেন, এবং রবীন্দ্র মেলার উদ্বোধন নিয়েও কেবল মজার ছলেই ভিডিওটি করেছিলেন, কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে নয়।
মারধর ও পুলিশে সোপর্দ
ক্ষমা চাওয়ার পরেও বুধবার রাতে স্থানীয় যুবদল, তাঁতী দল ও বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা আব্দুল কাদের ওরফে সজীবকে বাগমারা এলাকায় পেয়ে মারধর করেন এবং পরে তাকে বাগমারা থানায় সোপর্দ করেন। নেতাকর্মীদের দাবি, দেশের একজন সম্মানিত শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে যেভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে, তা অত্যন্ত মানহানিকর এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
পুলিশের বক্তব্য
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "থানায় সোপর্দ করা ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটর নিজের ভুল স্বীকার করায় এবং লিখিত মুচলেকা দেওয়ায় তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।"
ওসি আরও স্পষ্ট করেন যে, এই ঘটনায় সুনির্দিষ্ট কোনো বাদী না থাকায় এবং বিষয়টি আমলযোগ্য অপরাধের আওতায় না পড়ায় তাকে কোনো আইনি ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়নি। বর্তমানে ওই এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
অনুরূপ সংবাদ
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে : গোলাম পরওয়ার
নাসীরুদ্দীন ইস্যুতে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রাশেদ খাঁনের
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড মধ্যযুগীয়’ মন্তব্যের প্রতিবাদ গোলাম পরওয়ারের