ইসলামে একাধিক বিয়ের অনুমতি থাকলেও এর পেছনে যে কঠোর শর্ত ও দায়বদ্ধতা রয়েছে, তা আবারও স্মরণ করিয়ে দিলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি সতর্ক করেছেন যে, সামর্থ্য ও ইনসাফ (ন্যায়বিচার) নিশ্চিত করতে না পারলে একাধিক বিয়ে করা ইসলামী বিধান অনুযায়ী বৈধ নয়।
ইনসাফ ও সামর্থ্যের আবশ্যকতা
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলামে পুরুষকে সর্বোচ্চ চারটি বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে তা শর্তহীন নয়। এর দুটি প্রধান স্তম্ভ হলো: ১. আর্থিক সক্ষমতা: প্রত্যেক স্ত্রীর উপযুক্ত ভরণপোষণ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সামর্থ্য থাকতে হবে। ২. মানসিক ও আচরণগত ইনসাফ: সকল স্ত্রীর অধিকার সমানভাবে রক্ষা করা এবং কারও প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করা।
তিনি পবিত্র কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যদি কারও মনে সামান্যতম আশঙ্কা থাকে যে তিনি একাধিক স্ত্রীর মধ্যে ন্যায়বিচার করতে পারবেন না, তবে তাঁর জন্য একটি বিয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থাকাই ইসলামের অকাট্য নির্দেশনা।
সামাজিক ভুল ধারণা ও অপব্যাখ্যা
সমাজে দ্বীনি বিধানের ভুল ব্যাখ্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কিছু মানুষের অপরিণত আচরণ এবং পরিকল্পিতভাবে ইসলামের বিধানকে বিকৃত করার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন:
-
অতীতে বাংলাদেশে বহুবিবাহ সামাজিকভাবে স্বাভাবিক ছিল এবং তখন এটি নিয়ে বিতর্ক কম ছিল।
-
বর্তমানে এই বিধানকে নিয়ে কেউ কেউ তামাশা করেন বা ব্যক্তিগত খেয়াল-খুশির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন, যা দ্বীনের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করছে।
বিদ্বেষ ও ঈমানি সতর্কতা
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি একটি বিশেষ সতর্কবাণী দেন। তাঁর মতে, ইসলামের কোনো প্রতিষ্ঠিত বিধানের প্রতি অন্তরে ঘৃণা বা বিদ্বেষ পোষণ করা ঈমানের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বিধান পালনে সক্ষম না হলেও সেটিকে অবজ্ঞা না করে বরং দায়িত্বশীল আচরণ ও কথা বলা প্রয়োজন।
সারকথা
শায়খ আহমাদুল্লাহর এই আলোচনার মূল সুর ছিল—বহুবিবাহ কোনো অধিকারের চেয়ে বেশি একটি ভারী দায়িত্ব। যারা এই দায়িত্ব ও আল্লাহর কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর জবাবদিহিতা অনুভব করেন না, তাঁদের এই পথে পা না বাড়ানোই শ্রেয়।