বাংলাদেশ সফরে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কী কী থাকছে আলোচনায়?
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ শুক্রবার (৮ মে) ঢাকা আসছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী মহসিন রেজা নাকভি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটিই পাকিস্তানের কোনো মন্ত্রীর প্রথম বাংলাদেশ সফর। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সফরের সময়সূচি ও প্রটোকল
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পাকিস্তান হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের (বিজি-৩৪২) ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সফর শেষে তিনি আগামী ৯ মে রাত ৮টা ১০ মিনিটে ঢাকা ত্যাগ করবেন। পাকিস্তান হাইকমিশনের অনুরোধে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকার মন্ত্রীর জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিক প্রটোকল নিশ্চিত করেছে।
মাদক ও সন্ত্রাস দমনে সমঝোতা স্মারক (MoU)
সফরের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে শুক্রবার দুপুরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন রেজা নাকভি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক সই করবেন। এই চুক্তির আওতায় দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে বিস্তৃত আন্তঃদেশীয় মাদক চোরাচালান চক্র দমন, সন্ত্রাসী অর্থায়ন বন্ধ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে দুই দেশ একে অপরকে সহযোগিতা করবে।
আলোচনার মূল এজেন্ডা
সূত্রমতে, এবারের বৈঠকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ইস্যু অগ্রাধিকার পাবে:
-
মাদক চোরাচালান: আফগানিস্তান-পাকিস্তান রুট হয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় মাদকের বিস্তার রোধে যৌথ নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়।
-
সাইবার উগ্রবাদ: অনলাইনভিত্তিক জঙ্গি রিক্রুটমেন্ট, উগ্রবাদী প্রচারণা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমন।
-
আর্থিক অপরাধ: আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের অর্থায়ন এবং সন্দেহজনক লেনদেন পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি।
-
অন্যান্য: মানবপাচার রোধ, জাল ট্রাভেল ডকুমেন্ট শনাক্তকরণ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র দমনে সমন্বয়।
ক্রিকেট ও অন্যান্য বিষয়
স্বরাষ্ট্র পর্যায়ের আলোচনার পাশাপাশি মহসিন রেজা নাকভি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠকে মিলিত হবেন। দুই দেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন ও আন্তঃসহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে সেখানে ফলপ্রসূ আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে মহসিন নাকভির সাক্ষাতে পুলিশ প্রশিক্ষণ, কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের অন-অ্যারাইভাল ভিসা এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছিল। এবারের সফরের মাধ্যমে সেই সম্পর্কগুলো আরও কাঠামোগত রূপ পেতে যাচ্ছে।