বিশ্বের প্রথম ২৪ ঘণ্টার সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন নেটওয়ার্কের পথিকৃৎ এবং প্রখ্যাত মার্কিন মিডিয়া মুঘল টেড টার্নার আর নেই। বুধবার ৮৭ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে টার্নার এন্টারপ্রাইজেসের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি মস্তিষ্কের অবক্ষয়জনিত রোগ 'লুই বডি ডিমেনশিয়া'-তে ভুগছিলেন।
সংবাদ মাধ্যমে বৈপ্লবিক পরিবর্তন
১৯৮০ সালে কেবল নিউজ নেটওয়ার্ক (সিএনএন) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্ব সংবাদ ব্যবস্থায় এক বিশাল বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন টেড টার্নার। সেই সময় ২৪ ঘণ্টা খবরের চ্যানেল খোলার বিষয়টি অভাবনীয় হলেও তিনি তা সফল করে দেখান। বিশেষ করে ১৯৯০-৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় সিএনএনের সরাসরি ও বিরতিহীন সম্প্রচার বিশ্বজুড়ে তাকে অভাবনীয় পরিচিতি ও সফলতা এনে দেয়।
বহুমাত্রিক প্রতিভা
ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি ক্রীড়াজগতেও টার্নারের সরব উপস্থিতি ছিল। আটলান্টাভিত্তিক একাধিক পেশাদার ক্রীড়া দলের মালিক ছিলেন তিনি। এমনকি ১৯৭৭ সালে বিশ্বখ্যাত ইয়ট প্রতিযোগিতা 'আমেরিকাস কাপ'-এ অংশ নিয়ে নিজের সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তার এই গতিশীল ও স্পষ্টভাষী স্বভাবের জন্য তাকে ‘ক্যাপ্টেন আউটরেজিয়াস’ এবং ‘দ্য মাউথ অব দ্য সাউথ’ নামেও ডাকা হতো।
মানবহিতৈষী টার্নার
ব্যবসায়িক সাফল্যের বাইরে টেড টার্নার একজন বড় মাপের দানবীর হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তিনি জাতিসংঘের বিভিন্ন জনহিতকর ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
ব্যক্তিজীবন
ব্যক্তিজীবনে তিনি তিনবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তার মধ্যে হলিউডের প্রখ্যাত অভিনেত্রী জেন ফন্ডার সঙ্গে তার দীর্ঘ ১০ বছরের সংসার জীবনটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছিল।
টেড টার্নারের মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমকর্মী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার প্রয়াণে বিশ্ব সংবাদ মাধ্যমের একটি বর্ণিল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।